সিসি নিউজ।। রংপুর-দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও রুটে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যাত্রী সেবার মানোন্নয়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সৈয়দপুর বিসিক শিল্প নগরী সংলগ্ন নীলফামারী বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম সরকার। তিনি জানান, সৈয়দপুর শহরের ঘনবসতি, শিল্প-বাণিজ্য ও শিক্ষা নগরী হিসেবে বহুমাত্রিক যোগাযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে রংপুর-দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কে নীলফামারী সমিতির বাস সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হচ্ছে। এই বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনবার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও রংপুর ও দিনাজপুর মালিক সমিতি কোনো সাড়া দেয়নি। তবে ঠাকুরগাঁও মালিক সমিতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
তিনি মহাসড়কের এই সমস্যা সমাধানে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যথায় এই রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটলে তার দায় নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন নেবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, রংপুর থেকে সৈয়দপুরগামী যাত্রীদের সিটের টিকিট না দিয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করতে বাধ্য করা হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর সৈয়দপুরের যাত্রীদের বাসে উঠতে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। দিনাজপুর মালিকদের একাধিকবার লিখিতভাবে জানালেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে একাত্মতা প্রকাশ করে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, “উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের প্রাণকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও উপজেলা শহর হওয়ায় সৈয়দপুর নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। প্রতিবেশীদের বিমাতাসুলভ আচরণ পরিহার করে এই বাণিজ্যিক শহরের উন্নয়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”
জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক সভাপতি শাহনেওয়াজ উদ্দিন শানু অভিযোগ করেন, দিনাজপুর ও রংপুরের মালিক-শ্রমিকরা নীলফামারীর ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন। যাত্রীদের সঠিক সিট ও সেবা না দিলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।
শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী পরিবহন ব্যবস্থার কোটাবৈষম্য তুলে ধরে বলেন, “দিনাজপুর-রংপুর রুটে ১০টি বাস চললে সৈয়দপুর-রংপুর-দিনাজপুর রুটে নীলফামারী জেলার জন্য কেন মাত্র ৫টি বাসের সীমাবদ্ধতা থাকবে? এই রুট বৈষম্য দূর করে বাসের সংখ্যা বাড়ানো হলে যাত্রীদের হয়রানি কমবে এবং পরিবহন শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।”